User login

জনাব আবুল হাসান মাহমুদ আলী, এম.পি.

জনাব আবুল হাসান মাহমুদ আলী, এম.পি.
 
গণপ্রজাতন্ত্রী  বাংলাদেশ সরকারের 
মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী জনাব আবুল হাসান মাহমুদ আলী, এমপি’র 
জীবনী
 
আবুল হাসান মাহমুদ আলী ১৯৪৩ সালে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে ১৯৬২ সালে অর্থনীতিতে বি এ অনার্স সম্মান এবং ১৯৬৩ সালে একই বিষয়ে এম এ ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬৬ সালে পাকিস্তান ফরেন সার্ভিস (পিএফএস) এ যোগদানের পূর্বে (১৯৬৪-৬৬ সাল পর্যন্ত) তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতির শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। 
তাঁর বর্ণময় দীর্ঘ কূটনৈতিক জীবনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঢাকাস্থ প্রধান কার্যালয়সহ বিদেশস্থ বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশন যেমন নিউ ইয়র্ক (ভাইস কনসাল, কনসাল জেনারেলের চলতি দায়িত্ব), নতুন দিল্লী (প্রথম সচিব, কাউন্সেলর এবং উপ-হাইকমিশনার) এবং বেইজিংয়ে রাষ্ট্রদূতের পদমর্যাদায় উপ-মিশন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
 
জনাব আলী ভুটান (১৯৮৬-১৯৯০), অষ্ট্রিয়া, চেক রিপাবলিক এবং স্লোভাক রিপাবলিক- এর সমবর্তী দায়িত্বসহ জার্মানী (১৯৯২-৯৫) ও নেপালে (ফেব্রুয়ারী থেকে অক্টোবর ১৯৯৬) রাষ্ট্রদূত এবং আয়ারল্যান্ডের সমবর্তী দায়িত্বসহ যুক্তরাজ্যে (১৯৯৬-২০০১) হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জনাব মাহমুদ আলীই আয়ারল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রদূত। এছাড়া আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও অন্যান্য কার্যোপলক্ষে জনাব আলী পৃথিবীর বহুদেশ ভ্রমণ করেছেন।
 
ঢাকাস্থ প্রধান কার্যালয়ে তিনি প্রশাসন; আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ; জাতিসংঘ ও অর্থনৈতিক বিষয়াবলী; পলিসি প্ল্যানিং; এবং দক্ষিণ এশিয়া ও মানবাধিকার শাখাসমূহে মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব (দ্বিপাক্ষিক) হিসেবে তিনি ১৯৯২ সালে ভারতের সাথে তিন বিঘা করিডোর বাস্তবায়ন চুক্তির নেগোসিয়েশন ও চুক্তি স্বাক্ষর করেন। তিনি একই বছরে মিয়ানমারের সাথে মিয়ানমার শরণার্থীদের স¦দেশ প্রত্যাবর্তন চুক্তির প্রণয়ন ও অনুস্বাক্ষর করেন।
 
জনাব আলী একজন সাহসী মুক্তিযোদ্ধা এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের কূটনৈতিক ফ্রন্টে তাঁর অপরিমেয় অবদান রয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘে কাজ করেছেন। ১৯৬৮ সালে নিউইয়র্কে পৌঁছার পর পরই তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাঙালী সমাজকে এ ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করেন। ১৯৭১ সালের ২৬শে এপ্রিল তিনি বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করেন এবং সে বছরের মে মাসে মুজিবনগরে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত হন। মাহমুদ আলী মুজিবনগর সরকারের বিদেশস্থ প্রতিনিধি প্রধান এবং ১৯৭১ সালে জাতিসংঘে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের প্রধান বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর নির্বাহী সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
 
জনাব মাহমুদ আলী ২০০১ সালের এপ্রিল মাসে সরকারী চাকুরী হতে অবসর গ্রহণ করেন, এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। সেবছরই তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ডিসেম্বর ২০০২ সালে তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে নিযুক্ত হন। পরবর্তীতে তাঁকে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপ-কমিটির যৌথ-সভাপতির পদে নিযুক্ত করা হয়। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা দিনাজপুরের গ্রামীণ একটি নির্বাচনী এলাকা হতে জনাব আলী ডিসেম্বর, ২০০৮ সালে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সদস্য (চিরিরবন্দর ও খানসামা: দিনাজপুর-৪) নির্বাচিত হন। তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতিও নির্বাচিত হন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশের সমূদ্রসীমা সম্পর্কিত উচ্চ পর্যায়ের কমিটির সভাপতি হিসেবেও নিযুক্ত হন।
 
সেপ্টেম্বর ২০১২ সালে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় নামে আলাদা একটি মন্ত্রণালয় গঠিত হলে মাহমুদ আলী উক্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিযুক্ত হন। তিনি ২১শে নভেম্বর ২০১৩ সালে সকল রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত নির্বাচন সময়কালীন সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন। ২০১৪ সালের ৫ এবং ১৬ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুরের একই নির্বাচনী এলাকা হতে তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২৬ ফেব্রুয়ারী পুনরায় পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন।
 
অবসরে জনাব আলী পছন্দ করেন বই পড়তে, উপভোগ করেন সংগীত। খেলাধুলা বিষয়ে তিনি খুবই উৎসাহী বিশেষ করে টেনিস তাঁর প্রিয় খেলা।
 
ব্যক্তিগত জীবনে জনাব ও বেগম মাহমুদ আলীর দুজন সুপ্রতিষ্ঠিত পুত্র সন্তান রয়েছেন।
Tenure: 
December, 2015