|
মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, এমপি- এর জীবনালেখ্য
ডা. দীপু মনি বাংলাদেশের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনিই এ পদে প্রথম কোন নারী। মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ছিলেন।
দেশের সেরা চিকিৎসা বিদ্যাপীঠ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রী লাভের পর তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্স হপকিন্স ইউনির্ভাসিটির স্কুল অব পাবলিক হেলথ থেকে এমপিএইচ ডিগী্র অর্জন করেন। তিনি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে আইন বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জন্স হপকিন্স এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে সমঝোতা ও দ্বন্দ্ব নিরসনের ওপর কোর্স করেছেন। ডা. দীপু মনি বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের একজন আইনজীবী। সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি জাতীয় সংসদে চাঁদপুর-৩ (চাঁদপুর সদর-হাইমচর) আসনের প্রতিনিধিত্ব করছেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে যোগদানের পূর্ব পর্যন্ত ডা. দীপু মনি মানবাধিকার, নারী অধিকার, স্বাস্থ্য আইন, স্বাস্থ্য নীতি ও ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য অর্থায়ন, কৌশলগত পরিকল্পনা, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে আইন ও সংবিধানের আওতায় স্বাস্থ্য ও মানবাধিকার এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পররাষ্ট্রনীতি সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে কাজ করছিলেন।
গত দশ বছর যাবত ডা. দীপু মনি এশিয়া, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের কেবিনেট মন্ত্রী ও জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার পদস্থ প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূতদের নিকট তার দল ও দলীয় নেত্রীর প্রতিনিধিত্ব করছেন। তিনি একাধারে লেখালেখি, শিক্ষকতা, পরামর্শদাতা, গবেষণা, এ্যাডভোকেসি কর্মসূচি পরিচালনা করেন এবং দক্ষ ও অভিজ্ঞ চিকিৎসকদল নিয়ে গঠিত ফ্রি স্বাস্থ্যসেবা ক্লিনিকের মাধ্যমে দুঃস্থ ও স্বাস্থ্যসুবিধা বঞ্চিত মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার কাজ করেন। তিনি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আইন প্রণয়নে জনমত গড়ে তোলার কাজেও নিয়োজিত।
প্রতিনিধিত্বমূলক রাজনীতি ও রাজনৈতিক নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণের ব্যাপারে তিনি একজন একনিষ্ট প্রবক্তা। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউটের ঘনিষ্ঠ সহায়তায় তিনি দলীয় নারী কর্মীদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন। এ প্রশিক্ষণে তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের দু’জন মাস্টার ট্রেইনারের একজন।
গণতন্ত্র ও বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ঘনিষ্ঠ সঙ্গী মরহুম এম.এ. ওয়াদুদের কন্যা ডা. দীপু মনি। জনাব ওয়াদুদ ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতাকালীন সদস্য। ভাষা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ও পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের প্রথম কাউনিসল-নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি সুপরিচিত। সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে জনাব ওয়াদুদ বারবার কারাবরণ করেছেন। জাতির জনকের হত্যাকান্ডের পর মন্ত্রীসভায় অংশগ্রহণে অস্বিকৃতি জানানোর কারণে সামরিক সরকার তাঁকে কারারুদ্ধ করে।
অক্সব্রীজ শিক্ষায় শিক্ষিত বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের দু’জন ‘সিনিয়র এ্যাডভোকেটের’ অন্যতম জনাব তৌফীক নাওয়াজ ডা. দীপু মনির স্বামী জনাব নাওয়াজ আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত একটি ল’ফার্মের প্রধান। তিনি উপমহাদেশের দু’হাজার বছরের ঐতিহ্যমন্ডিত ধ্রুপদী সঙ্গীতের উৎস হিসাবে পরিচিত ‘আলাপ’ এর একজন শিল্পী। তাঁদের রয়েছে দু’সন্তান- পুত্র তওকীর রাশাদ নাওয়াজ (২০) ও কন্যা তানি দীপাভলী নাওয়াজ (১৫)। জনাব তৌফীক নাওয়াজ ও পুত্র তওকীর রাশাদ নাওয়াজ বাঁশীতে এবং কন্যা তানি দীপাভলী নাওয়াজ বেহালায় ‘আলাপ’ বাজান।
|